কালিয়াকৈরে বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাহেববাজার এলাকা।
রোববার (১৫ জুন) সকালে বিক্ষোভ চলাকালে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুন গাজীপুর জেলা বিএনপি পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ইউনিটের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর শনিবার রাতে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটিতে—
▪️ উপজেলা আহ্বায়ক: নূরুল ইসলাম সিকদার (সাবেক চেয়ারম্যান, মৌচাক ইউনিয়ন)
▪️ সদস্যসচিব: এম আনোয়ার হোসেন
▪️ পৌর আহ্বায়ক: মামুদ সরকার
▪️ সদস্যসচিব: মহসিন উজ্জামান
পৌর বিএনপির কমিটি মেনে নেওয়া হলেও, উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন পারভেজ আহমেদ নেতৃত্বাধীন একটি অংশ।
তাদের অভিযোগ— “এই কমিটি গঠনে জেলা সদস্যসচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে”।
আরও পড়ুন… লন্ডন বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ, তবে যৌথ বিবৃতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
এই দাবিতে শনিবার রাতেই একটি বিক্ষোভ মিছিল করে পারভেজ গ্রুপ।
রোববার সকালে আবারও তারা উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সাহেববাজার এলাকায় জড়ো হয়। একই সময়ে নতুন কমিটির সমর্থকরাও আনন্দ মিছিল নিয়ে বের হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ এসে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পরে সেনাবাহিনী উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পারভেজ আহমেদ বলেন,
“কমিটিতে থাকা কয়েকজন আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এসব কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
ইশরাক সিদ্দিকীর অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১০–১৫ জনকে আহত করেছে।”
অপরদিকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী দাবি করেন—
“নতুন কমিটিতে যারা আছেন তারা সবাই ক্লিন ইমেজের।
আনন্দ মিছিল বের হলে একটি পক্ষ পদবঞ্চিত হয়ে হামলা করে।”
আরও পড়ুন… হাতিরঝিলের পানি বিশুদ্ধকরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ রাজউক চেয়ারম্যানের
কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন,
“দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আমরা টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল।”

