
🟩 ঈদুল আজহার ছুটির পর অফিস খোলার কারণে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে গেছে
🟩 টিকিটের স্বল্পতা ও কালোবাজারির কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠেন
🟩 প্রতি দিন প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ইসলামপুর রুটে যাত্রা করেন, সিট সংখ্যা খুবই সীমিত
জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের এক বড় অংশ ট্রেনের সিট না পেয়ে ছাদে চড়ে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঈদুল আজহার ছুটির পর আজ থেকে অফিস খোলায় প্রচণ্ড ভিড় থাকায় সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “সিট না পেলেও যেতে হবে, তাই ছাদে ওঠা ছাড়া বিকল্প নেই।”
দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং প্রতিদিন দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ইসলামপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। গত দুই দিন ধরে ট্রেনের ভিড় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায়, রোদে পুড়তে-পুড়তে যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে উঠছেন।
আরও পড়ুন... রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে যুবক নিহত: পুলিশ তদন্তে
যাত্রীদের কথায়, ইন্টারসিটি গাড়ি ‘তিস্তা’ ও ‘ব্রহ্মপুত্র’ ট্রেনের টিকিট ১০০% অনলাইনে পাওয়া যায়। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রী অনলাইনে টিকিট কেনায় পারদর্শী নন। ফলে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, আর কালোবাজারিরা উচ্চ দামে টিকিট বিক্রি করে। সরকার নির্ধারিত সিটের ভাড়া ইসলামপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ২৫০ টাকা হলেও কালোবাজারিরা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন।
দূরদূরান্ত থেকে আসা দিনমজুররা জানান, অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় কম ভাড়ার কারণে তারা বারণ সত্ত্বেও ছাদে উঠে যাত্রা করছেন। গাইবান্ধা থেকে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, “ছাদ এতটাই উত্তপ্ত যে সেখানে ডিম ভাজা যাবে। ৫-৭ ঘণ্টা ছাদে থাকা অসম্ভব।”
বাংলাদেশ রেলওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মো. ইসরাফিল পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“এই গরমে ট্রেনের ছাদে যাত্রা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বেসরকারি ট্রেন হওয়ায় আমরা বেশি কিছু করতে পারছি না।”
ইসলামপুর কমিউটার ট্রেন কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রেনে যাত্রী আসনের সংখ্যা খুবই সীমিত; শনিবার প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ঢাকা রওনা করেছে। তারা আরও দুটি ট্রেন চালুর দাবি করেছেন, কারণ বর্তমানে এই রুটে কয়েকটি জেলা নির্ভর করে যাতায়াত করে।
আরও পড়ুন... কুয়াকাটায় ধরা পড়লো ২৩ কেজির কোরাল মাছ, নিলামে বিক্রি ২৫ হাজার টাকায়
ইসলামপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. শাহীন মিয়া পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী চারটি ট্রেন চলাচল করে। মোট সিট সংখ্যা ৪০০ হলেও যাত্রীসংখ্যা ৮ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত হয়। তাই সিট না পেয়ে অনেকেই ছাদে উঠে যান। প্রচণ্ড রোদে রুমে থাকা অসম্ভব হওয়ায় তারা ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছেন।”
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত