
লন্ডনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচিত বৈঠক ঘিরে দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে আগামী বছরের রমজান মাসের আগের সময়কে প্রস্তাব করা হলেও যৌথ প্রেস ব্রিফিং এবং যৌথ বিবৃতি নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
গত শুক্রবার (৬ জুনের এক সপ্তাহ পর) অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ‘যৌথ বিবৃতিতে’ জানানো হয়—
“সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন হতে পারে।”
ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এর আগে ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে। বৈঠকের পর এই অবস্থান থেকে সরে এসে আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা জানান তিনি।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—
🔹 কেন সরকার কেবল বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করল
🔹 কেন বিদেশে যৌথ বিবৃতি দিল
🔹 এতে কি সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলো না?
আরও পড়ুন... হাতিরঝিলের পানি বিশুদ্ধকরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ রাজউক চেয়ারম্যানের
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ একাধিক দল যৌথ বিবৃতিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় বলে আখ্যা দিয়েছে।
জামায়াত বলছে—
“ড. ইউনূস একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ দেখিয়েছেন। এটি তার নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।”
ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্য—
“যৌথ বিবৃতি শোভনীয় নয়। একটি দলের সঙ্গে সরকারের এমন ঘোষণা অবাঞ্ছিত।”
এনসিপির অভিযোগ—
“বৈঠকে বিচার ও সংস্কার ইস্যু গুরুত্ব না পাওয়ায় হতাশ। নির্বাচনের আগে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিক্রিয়াও একই সুরে—
“সব দলের সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত। এ ধরনের একচেটিয়া আচরণ অন্য দলের প্রতি বৈষম্যের বার্তা দেয়।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন—
“নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, রোজা, আবহাওয়া এবং পরীক্ষার কারণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করাই অধিকতর যৌক্তিক। এই প্রস্তাব জামায়াতের আমিরও আগেই দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও জানান, এই আলোচনায় দেশের বৃহৎ অংশের রাজনৈতিক মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও পড়ুন... ঢাকায় আজ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, সামান্য বাড়তে পারে তাপমাত্রা
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন—
“দেড় ঘণ্টার এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ড. ইউনূস সময়সীমা আগিয়ে এনেছেন, তারেকও কিছু ছাড় দিয়েছেন। এভাবে একটি ‘আপস রফা’ হয়েছে। এখন সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন—
“এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব যদি প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে পুলিশ বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থা এবং ডিসিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ—সবকিছু ঠিক করতে হবে।”
🔻 সারকথা:
লন্ডন বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে জট কিছুটা কেটেছে বলে মনে হলেও, যৌথ বিবৃতি ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নে বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। সমালোচনার তীর মূলত সরকারের একক সিদ্ধান্ত এবং বিএনপি-ঘেঁষা অবস্থানের দিকেই।
আরও পড়ুন... হজে সরকারি অর্থে কর্মচারী প্রেরণ নিয়ে বিতর্ক: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
👉 আগামী দিনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষেরই ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত