
ভারতের মণিপুর রাজ্যে ফের অশান্ত পরিস্থিতি। মেইতেই গোষ্ঠীর এক নেতাসহ পাঁচ জনকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে গ্রেফতারের জেরে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা সোমবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ইম্ফল শহরের একাধিক এলাকায় সংঘর্ষ, মশাল মিছিল, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও রাস্তা অবরোধের মতো ঘটনা ঘটে।
বিশেষ করে পূর্ব ইম্ফলের ইয়াইরিপোক তুলিহাল এলাকায় মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ভবনের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ওয়াংখেই, ইয়াইরিপোক ও খুরাই এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। একই চিত্র দেখা গেছে পশ্চিম ইম্ফলের কাকেইথেল ও সিংজামেই এলাকাতেও।
আরো পড়ুন...নড়াইলে সেনা অভিযানে উদ্ধার ৪.৫ ক্যালিবারের স্নাইপার রাইফেল
সোমবার সকালে কিছু এলাকায় এখনও পোড়া টায়ারের ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। পশ্চিম ইম্ফলের সেকমাই ও কোইরেঙ্গেই অঞ্চলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় মাটির ঢিবি তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ জানিয়েছে, ইম্ফল বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার রাস্তা সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবরোধ তুলে ফেলা হয়েছে।
মণিপুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। একাধিক এলাকায় বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার এনআইএ ও সিবিআইয়ের যৌথ অভিযানে আরামবাই টেংগোল সংগঠনের এক কমান্ডারসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই রাজ্যে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক পুলিশ সদস্য অসীম কানন সিংহ, যিনি অস্ত্র পাচারসহ একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। তাদের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে পৃথক কুকি সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত