
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, এতে অন্তত ৪৫০ পরিবার অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ মে) রাত থেকে আখাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহ শুরু হয়। কয়েক দিনের অবিরত বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিলে পানি বেড়ে যায়। আখাউড়া স্থলবন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালন্দি খাল, কালিকাপুর হয়ে আবদুল্লাপুর দিয়ে জাজি গাঙ, বাউতলা দিয়ে মরা গাঙ এবং মোগড়া ইউনিয়ন হয়ে হাওড়া নদীতে অস্বাভাবিক পানি প্রবাহ দেখা দেয়। এতে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ফসলি জমি, রাস্তা ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন... ছয় জেলায় বন্যার আশঙ্কা, সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানিবন্দি পরিবারের জন্য ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ১৩টি পরিবারের প্রায় ৫০ জন রোববার আশ্রয় নিয়েছেন।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টের পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন, সোমবার (২ জুন) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন যাত্রী পারাপার হয়েছে। তবে সকালের পর থেকে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনের অংশে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদীর ভারত সীমান্তে সোমবার সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১১.২২ মিটার, যা বিপৎসীমা ১০.৭০ মিটারের থেকে প্রায় ৫২ সেন্টিমিটার ওপরে। এর আগের দিন একই সময়ে পানির সমতল ছিল ১১.৫৮ মিটার, অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।’
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জি এম রাশেদুল ইসলাম পদ্মা টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, ‘হাওড়া নদীর বাঁধ অক্ষত আছে। ১৯টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ৪৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।’
আরও পড়ুন... নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ১৫০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ বহু
গত ২৮ মে থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মোগড়া, মনিয়ন্দ ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। রোববার পর্যন্ত ১০টি গ্রাম প্লাবিত থাকলেও সোমবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯টি গ্রামে।
তবে রপ্তানিকারকদের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি জমলেও আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসা কার্যক্রম ও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত