
🟩 আশুরা: ১০ মহররম, ইসলামী বর্ষপঞ্জির বিশেষতম দিন
🟩 আশুরার রোজায় এক বছর আগের গুনাহ মাফ হয়—সহিহ হাদিসে বর্ণিত
🟩 ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে আশুরার আগে বা পরে একদিন রোজার নির্দেশ
🟩 কারবালার ট্র্যাজেডির বহু পূর্বেই আশুরার মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত
ইসলামী নতুন বছরের প্রথম মাস মহররম, যার দশম দিবসকে বলা হয় “আশুরা”, এক ঐতিহাসিক ও ফজিলতময় দিন। এ দিনটির রয়েছে অগাধ গুরুত্ব ও বহু তাৎপর্য। আশুরার দিনে রোজা রাখা শুধু সুন্নত নয়, বরং একটি বরকতময় ইবাদত—যা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে, এমনটি বর্ণিত হয়েছে সহিহ হাদিসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এদিনে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করেন। তখন নবীজি বলেন, “আমি তোমাদের চেয়ে মুসার (আ.) অধিক হকদার।” এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবাদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)
আবু কাতাদা (রা.)-এর সূত্রে রাসুল (সা.) বলেন:
“আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন:
“আমি আল্লাহর রাসুলকে রমজানের রোজা ও আশুরার রোজার মতো আর কোনো রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।” (সহিহ বুখারি: ২০০৬)
ইহুদিরা কেবল ১০ মহররমে রোজা রাখত। রাসুল (সা.) চাইলেন যেন মুসলমানদের রোজা তাদের সঙ্গে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়। তাই তিনি নির্দেশ দেন, ১০ মহররমের সঙ্গে আরও একদিন—আগে বা পরে—যোগ করে রোজা রাখতে।
তিনি বলেন:
“আশুরার দিন রোজা রাখ এবং এতে ইহুদিদের বিরোধিতা কর; এক দিন আগে বা এক দিন পরে রোজা রাখো।” (মুসনাদে আহমদ: ২১৫৫)
বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরির মহররম শুরু হয়েছে ২৭ জুন (শুক্রবার)। সেহেতু ১০ মহররম (আশুরা) পড়েছে ৬ জুলাই (রবিবার)। যারা দুই দিন রোজা রাখতে চান, তারা রাখতে পারেন:
৫ ও ৬ জুলাই (শনিবার ও রবিবার)
৬ ও ৭ জুলাই (রবিবার ও সোমবার)
আরও পড়ুন... “যেনতেন নির্বাচন চাই না, প্রয়োজন হলে রক্তের বিনিময়েও পরিবর্তন আনবো”: ডা. শফিকুর রহমান
কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার বহু আগেই আশুরা ছিল সম্মানিত দিন। এই দিনেই—
হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়
হজরত নূহ (আ.) জুদি পর্বতে অবতরণ করেন
হজরত ইব্রাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পান
হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর সঙ্গে তুর পর্বতে কথা বলেন এবং ফেরাউন নীল নদে ডুবে যায়
হজরত আইয়ুব (আ.) রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন
হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হন
হজরত সুলাইমান (আ.) রাজত্ব ফিরে পান
হজরত ঈসা (আ.)-কে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়
জিব্রাইল (আ.) সর্বপ্রথম নবীজির কাছে ওহি নিয়ে আসেন
এমনকি ভবিষ্যতে কিয়ামত দিবসে ইস্রাফিল (আ.)-এর ফুৎকারও মহররমের কোনো এক শুক্রবারেই হবে বলে হাদিসে বর্ণিত
তবে ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনটির আরেকটি হৃদয়বিদারক অধ্যায় হলো—৬১ হিজরিতে হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত। কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে তিনি ও তাঁর পরিবার শহীদ হন, যা মুসলমানদের মনে আশুরাকে এক বিষাদের স্মারক হিসেবেও তুলে ধরে।
আরও পড়ুন... হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হাজি
আশুরা শুধু কারবালার ঘটনা নয়, বরং এটি একদিনে বহু নবী ও উম্মতের মুক্তির দিন। তাই রোজা, ইবাদত, দোআ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা মুসলমানদের জন্য বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত