আফগানিস্তানের নাম শুনলেই আপনার মনে হবে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ এর কথা।কিন্তু আপনি কি জানেন?পৃথিবীর অন্যতম নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ আফগানিস্তান। বিস্তৃত এই দেশের বিভিন্ন প্রদেশের এত অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে যা দেখলে মোল্লাদের দেশ সম্পর্কে আপনার ধারণা বদলে যেতে বাধ্য। পশ্চিমা মিডিয়া আমাদের সবসময় জঙ্গিবাদের গল্প শোনাতো আজ আমরা দেখবো নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ভিন্ন এক আফগানিস্তান। কোনার প্রদেশের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখলে এটাকে আপনার কাশ্মীর বলে ভুল হতে পারে, পাহাড়ে ঝরনা টসটসে রসালো ফল আর স্থানীয় মানুষের সহজ-সরল গ্রামীণ জীবন। এগুলো দেখলে আপনার মনে চাইবে পৃথিবীর সব ঝামেলা কে বিদায় দিয়ে বাকি জীবন টুকু এখানেই কাটিয়ে দেই।
সূর্য পাহার সেখান থেকে কোন কোন ধ্বনিতে বয়ে আসা সৎস প্রস্রবণ ঝরনা দুপাশে বহুরকম তরুলতা।নূরিস্তানের এই দৃশ্য দেখলে আপনার মনে হবে পৃথিবী তো নয় এজন্য কোনো স্বর্গরাজ্য। ৪০ বছর ধরে যুদ্ধের কোনো চিহ্নই এখানে নেই। রাশিয়া-আমেরিকা এখানে লাখ লাখ টন বোমা ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু না পেরেছে এই সৌন্দর্য নষ্ট করতে না পেরেছে এই সরল মানুষগুলোকে পরাজিত করতে । এই অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতি আর এখানকার সরল মানুষ গুলোর কাছেই হোঁচট খেয়েছে বিশ্বের দুই সুপার পাওয়ার। ইমারত সরকারের বিগত শাসনামলে বামিয়ানের বিখ্যাত বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসের কারণে এই প্রদেশ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে।
হাজার বছর আগে যেই সভ্যতা এখানে পাওয়া গেছে তাতে পাথরের সুউচ্চ পাহাড় খোদাই করে বিস্ময়কর ভাবে বসত ঘর বানানো হয়েছে। এছাড়া ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার উপরে নীল নদের জলরাশি যেখানে হৃদয় মন বিরোধিতা করে দিবেন বিস্ময়কর এই বেগুনি ফুল গাছগুলো। ওয়ান প্রদেশের ভুলভ্রান্তি এলাকায় অবস্থিত উঁচু-নিচু সুবিস্তৃত পাহাড়ি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই ফুলের নাম আর্ঘা ওয়ান। যারা আকর্ষণীয় আফগানিস্তানের ভেতর বাহির থেকে বহু পর্যটক এখানে ছুটে আসে দৃষ্টিনন্দন বেগুনি গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে, গল্পের আসর বসে কেউবা আবার ঘোড়া ছুটিয়ে মনের আনন্দে ঘুরে ফিরে। সবুজ উদ্যান দেখলে আপনার মনে পড়বে উইন্ডোজ এক্সপির বিখ্যাত সেই বাড়ির কথা ।
বিশাল এলাকাজুড়ে সবুজের ঢেউ খেলানো এমন পাহাড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় পাহাড় থেকে নেমে আসার ছোট-বড় ঝর্ণাধারা সৌন্দর্য। আর সজীবতা যেন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সৌন্দর্য।
আফগানিস্তানের মূল জনপদ থেকে ভিন্ন এক জাতিগত বৈচিত্রের দেখা মিলবে ওয়ান করিটরে পাকিস্তান ও তাজিকিস্তান। এই তিন দেশের মাঝখানে অবস্থিত সমান্তরালেই পরিচয় ।
এখানে দেখা মিলবে বিখ্যাত ক্যারাভান মুসাফির দলের নামে পরিচিত মহিষের, এক ধরনের প্রাণীর পিঠে সওয়ার হয়ে এরা বরফের মধ্য দিয়ে পথ চলতে থাকে।দুনিয়ার আধুনিকতা ধোঁকাবাজি কিংবা ইন্টারনেটে নোংরামি থেকে অনেক দূরে নিজেদের নিয়ে চলছে তাদের সন্তান।
এছাড়াও কান্দাহারের জারিন কাবুলের আঙুর আর যার নিজের একটা আপেল হাজার হাজার মাইল দূর থেকেও দর্শকদের জিভে জল এনে দেয়। আমরা উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি জায়গার কথা বললেও, সাড়ে 6 লাখ বর্গ কিলোমিটার এর পুরো আফগানিস্তানি এমন অজস্র প্রাকৃতিক বৈচিত্রে ভরপুর। পাথুরে পাহাড় পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বিপদসংকুল গিরিপথ প্রতি কদমে। মৃত্যুঝুঁকি 81 হাজার বছরের পুরনো মানবসভ্যতা শব্দ ঝরনা উঁচু-নিচু পাহাড় এর পাইন গাছের সারি নীলাভ লেকের, স্বচ্ছ জলরাশি টসটসে রসালো ফল বাগান জীবজন্তু জাতিগত বৈচিত্র আর এসব কিছুর সাথে ইমারত সরকারের সুশাসন।
পৃথিবীর বুকে এক টুকরো স্বর্গ বলা হচ্ছে। আফগানিস্তান কে পশ্চিমা মিডিয়া সবসময় আমাদের চোখের আড়াল করেছে, ওদের জঙ্গিবাদী অপপ্রচারের বাইরের চোখ তুলে তাকালে আপনি দেখতে পাবেন নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভিন্ন এক আফগানিস্তান।আন্তর্জাতিক ডেস্ক পদ্মা টিভি।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত